আমরা সবাই হ্যাকড : পলক

১ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:৪৫  

বিদ্যুত, টেলকম ও আর্থিক খাত এখন সাইবার হুমকীর লাল জোনে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হ্যাকিং। এছাড়াও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে এসে ডেটা কেবল মানুষ, যন্ত্র, ওয়েব বা অ্যাপের সঙ্গেই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে ঝুঁকি বেড়েছে। হ্যাক্টিভিজমের শিকার হয়ে আমাদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কে হামলা করে ডেটা চুরি কিংবা নেটওয়ার্ক ব্যাহত করছে। ভুল, ভুয়া ও ঘৃণা ছাড়ানো তথ্য, ডিপফেক, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তথ্যের মহামারি সমাজ ব্যবস্থাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিয়ন্ত্রণ করছে। যার ফলে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সাইবার ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব। তবে এই ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জিডিপির সমান হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই তা জানে না। কেননা, যদি কেউ একবার গুগল সার্চ করে থাকেন তবে তিনি ট্র্যকিং ও হ্যাকিং এর শিকার হয়ে আছেন। জানি বা না জানি আমরা সবাই হ্যাকড। সঙ্গত কারণেই বহুপক্ষীয় সমন্বয় ছাড়া সাইবার জগতের নিরাপত্তা বিধান সম্ভব নয়।

রবিবার বিকেলে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স একটা টেকনোলজি (এমআইএসটি )এর যৌথ উদ্যোগে  "Measures and Preparedness for Emerging Cyber Threats শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, এখন প্রায় সবাই ই-মেইল ব্যবহার করেন। যদি কেউ ইয়াহু, গুগল বা ইমেইল ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনারা অলরেডি হ্যাকড। কিন্তু আপনারা এই হ্যাকিং বিষয়ে জানেন না। যদি একবার গুগলে সার্চ করে থাকেন তা হলে আপনি ট্র্যাকিং ও হ্যাকিং এর শিকার হয়ে আছেন। অর্থাৎ ইন্টারনেট যে ব্যবহার শুরু করলো সে লোকেশন বন্ধ, ফোনের মাইক্রফোন ও ক্যামেরা বন্ধ করে রাখলেই আপনি গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল কিংবা স্যামস্যাং এর ট্র্যাকিংয়ের বাইরে- সেই ধারণা ভুল।  

এসব বিষয়ে ধারণা পেতে স্পাইক্র্যাফট ও আই ডট টি ডট এর মতো মুভি দেখতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান পলক। এসময় তিনি অর্ধশতাধিক উপস্থিতিকে নিজের গাঁটের পয়সায় দেশের প্রথম সাইবার থ্রিলার অন্তর্জাল ছবিটি সোম বা বুধবার দেখাবেন বলে কথা দেন।

বক্তব্যের শুরুতে দেয়া একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষ ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে ৪১৬ কোটি ডিজিটাল ডিভাইস করবে। গুগল’র তথ্য অনুযায়ী এখন ৩০০-৫০০ কোটি ওয়েবপেজ রয়েছে যেখানে ৬৯.৪ জেটাবাইট ডেটা জেনারেট হয়। ফলে সাইবার জগতে ঝুঁকিটাও বড় হচ্ছে। কেননা এখন মিসাল ছাড়াই একটি দেশ থেকে বসে আরেকটা দেশে আর্থিক, সামরিক, টেলিকম ও বিদ্যুত ব্যবস্থা চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়া যেতে পারে। ২০১৬ সালে এর সাক্ষী হয়েছি আমরা। একটি ‍গুলি না ফুটিয়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে হ্যাকাররা।

ইন্টারনেটে যুক্ত না হয়েও আপনি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। - যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী পলক। যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনে সুপার অ্যাডমিন কে তা যখন জানি না তাহলে গুদামে তালা দিলেও সে তো সেটি খুলে দেখতেই পারে। এভাবেই আমরা ভালনারেবল।  

এআই এবং ইন্টারনেট অব থিংকস এর নেতিবাচক ব্যবহারে যেন দুর্বৃত্তরা এগিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সাইবার দক্ষতায় পারদর্শীতা বাড়াতে পাঁচটি ‘পি’-তে গুরুত্বারোপ করেন পলক। এগুলো হলো- পিপল, পলিসি, প্লাটফর্ম, প্রমোট এবং ট্রেনিং-লার্নিং, লিটারসি নিয়ে ইউনিভার্সিটি-একাডেমিয়া ও অর্গানাইজেশনের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি। এগুলো গত প্রায় সাত বছর ধরে এই কাজ করছে সরকার।

দেশের সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ভাড়া করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, এজন্য আমাদের নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। তা না কলে সবাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের, বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম প্রমুখ।